Loading...

ভ্যারিসেলা ভাইরাস ভ্যাকসিন

Generic Medicine
নির্দেশনা

এই ভ্যাকসিন ১২ মাস বা তার বেশি বয়সী শিশু, কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্কদের চিকেনপক্স (ভ্যারিসেলা) প্রতিরোধে সক্রিয় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।

ফার্মাকোলজি

ভ্যারিসেলা ভাইরাস ভ্যাকসিন ভ্যারিসেলা-জোস্টার ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোষ-মধ্যস্থ (cell-mediated) এবং হিউমোরাল উভয় ধরনের ইমিউন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ভ্যারিসেলার বিরুদ্ধে সুরক্ষায় এই প্রতিক্রিয়াগুলোর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত নয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রতি ০.৫ মি.লি. ডোজ ভ্যারিসেলা ভাইরাস ভ্যাকসিন সাবকিউটেনিয়াসভাবে প্রয়োগ করা হয়। ইনজেকশনটি উপরের বাহুর ডেলটয়েড অঞ্চলের বাইরের অংশে অথবা উরুর উপরের অ্যান্টেরোল্যাটেরাল অংশে দিতে হবে।

শিশু (১২ মাস থেকে ১২ বছর): প্রথম ডোজ সাধারণত ১২–১৫ মাস বয়সে দেওয়া হয়, তবে ১২ বছর পর্যন্ত যেকোনো সময় দেওয়া যেতে পারে। দ্বিতীয় ডোজ ৪–৬ বছর বয়সে দেওয়া উচিত। ভ্যারিসেলা ভ্যাকসিনের দুটি ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ৩ মাস বিরতি থাকতে হবে। যদি একই সময়ে না দেওয়া হয়, তবে ভ্যারিসেলা ভ্যাকসিন এবং হামযুক্ত ভ্যাকসিনের মধ্যে কমপক্ষে ১ মাস বিরতি রাখতে হবে।

কিশোর (≥১৩ বছর) ও প্রাপ্তবয়স্ক: ভ্যারিসেলা ভাইরাস ভ্যাকসিনের ২টি ডোজ দেওয়া হয়, প্রতিটি ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ৪ সপ্তাহ বিরতি থাকতে হবে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

স্বাভাবিক ভ্যারিসেলা সংক্রমণের সময় স্যালিসাইলেট ব্যবহারকারী শিশু ও কিশোরদের মধ্যে রেয়েস সিনড্রোমের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। ভ্যারিসেলা ভাইরাস ভ্যাকসিনের সাথে একযোগে ইমিউনোগ্লোবুলিন বা অন্যান্য রক্তজাত পণ্য ব্যবহার করলে প্রত্যাশিত ইমিউন প্রতিক্রিয়া কমে যেতে পারে। এই ভ্যাকসিন নেওয়ার ফলে পিউরিফাইড প্রোটিন ডেরিভেটিভ (PPD) টিউবারকুলিন স্কিন টেস্টের সংবেদনশীলতা সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

তীব্র অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া: যাদের ভ্যাকসিনের কোনো উপাদান (যেমন নিওমাইসিন বা জেলাটিন) বা পূর্বে ভ্যারিসেলা ভ্যাকসিন নেওয়ার পর অ্যানাফাইল্যাক্সিস বা তীব্র অ্যালার্জি হয়েছে, তাদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত নয়।

ইমিউনোসাপ্রেশন: যাদের ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি রয়েছে বা রোগ বা চিকিৎসার কারণে ইমিউনোসাপ্রেসড, তাদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত নয়। এ ধরনের রোগীদের ভুলবশত ভ্যাকসিন দিলে বিস্তৃত ভ্যারিসেলা সংক্রমণ ও তীব্র র‍্যাশ দেখা যাওয়ার রিপোর্ট রয়েছে।

মাঝারি বা তীব্র জ্বরজনিত অসুস্থতা: যাদের সক্রিয় জ্বর (৩৮.৫°C এর বেশি) সহ মাঝারি বা গুরুতর অসুস্থতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত নয়।

চিকিৎসাহীন সক্রিয় টিউবারকুলোসিস: যাদের সক্রিয় ও চিকিৎসাহীন টিবি রয়েছে, তাদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত নয়।

গর্ভাবস্থা: গর্ভবতী নারী বা যারা আগামী ৩ মাসের মধ্যে গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে না। স্বাভাবিক ভ্যারিসেলা সংক্রমণ ভ্রূণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

১ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে সাধারণ (≥১০%) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো হলো:

  • জ্বর ≥১০২.০°F (৩৮.৯°C): ১৪.৭%
  • ইনজেকশন স্থানের প্রতিক্রিয়া: ১৯.৩%

১৩ বছর বা তার বেশি বয়সী কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সাধারণ (≥১০%) পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো হলো:

  • জ্বর ≥১০০.০°F (৩৭.৮°C): ১০.২%
  • ইনজেকশন স্থানের প্রতিক্রিয়া: ২৪.৪%

সব বয়সের ক্ষেত্রে অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে:

  • ইনজেকশন স্থানে ভ্যারিসেলা-সদৃশ র‍্যাশ
  • সারা শরীরে ভ্যারিসেলা-সদৃশ র‍্যাশ
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

ভ্যারিসেলা ভাইরাস ভ্যাকসিন গর্ভাবস্থায় ব্যবহার নিষিদ্ধ, কারণ এতে জীবিত দুর্বলকৃত ভাইরাস থাকে। গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিক ভ্যারিসেলা সংক্রমণ জন্মগত ভ্যারিসেলা সিনড্রোম সৃষ্টি করতে পারে। তবে ভুলবশত গর্ভাবস্থায় ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে গর্ভপাত, বড় জন্মগত ত্রুটি বা জন্মগত ভ্যারিসেলা সিনড্রোমের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে প্রাণী গবেষণার তথ্যও নেই।

ভ্যাকসিন ভাইরাস মানব দুধে নিঃসৃত হয় কিনা তা জানা যায়নি। স্তন্যদানকারী মায়ের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের প্রয়োজনীয়তা এবং শিশুর সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রতিরোধমূলক ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে মায়ের অবস্থা ও রোগের ঝুঁকিও বিবেচনায় রাখা উচিত।

সতর্কতা

যাদের পরিবারে জন্মগত বা বংশগত ইমিউনোডেফিসিয়েন্সির ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ভ্যারিসেলা ভাইরাস ভ্যাকসিন দেওয়ার আগে ইমিউন সক্ষমতা মূল্যায়ন করা উচিত। ভ্যারিসেলায় সংবেদনশীল উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়ানো উচিত, কারণ ভ্যাকসিন ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে। ভ্যাকসিনের সাথে একযোগে ইমিউনোগ্লোবুলিন (IG) বা অন্যান্য রক্তজাত পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়। শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন নেওয়ার পর ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত স্যালিসাইলেট ব্যবহার এড়ানো উচিত।

স্পেশিয়াল পপুলেশন

শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: ১২ মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ভ্যারিসেলা ভাইরাস ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল তথ্য নেই।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী সেরোনেগেটিভ ব্যক্তিদের উপর পর্যাপ্ত গবেষণা না থাকায়, তাদের প্রতিক্রিয়া কম বয়সীদের থেকে ভিন্ন কিনা তা নির্ধারণ করা যায়নি।

থেরাপিউটিক ক্লাস

ভ্যাকসিন, অ্যান্টিসেরা ও ইমিউনোগ্লোবুলিন

সংরক্ষণ

২°C থেকে ৮°C তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন। জমিয়ে ফেলবেন না। আলো থেকে সুরক্ষিত রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

ভ্যারিসেলা ভাইরাস ভ্যাকসিন কিসের ওষুধ?

ভ্যারিসেলা ভাইরাস ভ্যাকসিন এর কাজ কি?

ভ্যারিসেলা ভাইরাস ভ্যাকসিন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি?

ভ্যারিসেলা ভাইরাস ভ্যাকসিন বেশি নিলে কি হয়?

গর্ভাবস্থায় ভ্যারিসেলা ভাইরাস ভ্যাকসিন নেওয়া যাবে কি?

No available drugs found

  View in English