Loading...

ডেফ্লাজাকোর্ট

Generic Medicine
নির্দেশনা

ডিফ্লাজাকোর্ট বিভিন্ন ধরনের প্রদাহজনিত, অ্যালার্জিক, অটোইমিউন এবং ক্যানসারজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যেমন:

  • অ্যানাফাইল্যাক্সিস, অ্যাজমা এবং গুরুতর অতিসংবেদনশীলতা প্রতিক্রিয়া
  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, জুভেনাইল ক্রনিক আর্থ্রাইটিস এবং পলিমায়ালজিয়া রিউমাটিকা
  • সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথেমাটোসাস, ডার্মাটোমায়োসাইটিস, মিক্সড কানেকটিভ টিস্যু ডিজিজ (সিস্টেমিক স্ক্লেরোসিস ছাড়া), পলিআর্টেরাইটিস নোডোসা এবং সারকয়ডোসিস
  • পেমফিগাস, বুলাস পেমফিগয়েড এবং পাইডারমা গ্যাংগ্রেনোসাম
  • মিনিমাল চেঞ্জ নেফ্রোটিক সিন্ড্রোম এবং অ্যাকিউট ইন্টারস্টিশিয়াল নেফ্রাইটিস
  • রিউম্যাটিক কার্ডাইটিস
  • আলসারেটিভ কোলাইটিস এবং ক্রন’স ডিজিজ
  • ইউভিয়াইটিস এবং অপটিক নিউরাইটিস
  • অটোইমিউন হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া এবং আইডিওপ্যাথিক থ্রম্বোসাইটোপেনিক পারপুরা
  • অ্যাকিউট ও লিম্ফাটিক লিউকেমিয়া, ম্যালিগন্যান্ট লিম্ফোমা এবং মাল্টিপল মায়েলোমা
  • অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর ইমিউন সাপ্রেশন (ইমিউন দমন)
ফার্মাকোলজি

ডিফ্লাজাকোর্ট ফসফোলিপেজ A2 এনজাইমকে বাধা দিয়ে প্রদাহবিরোধী কার্যকারিতা প্রদর্শন করে, যা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণের জন্য দায়ী। এছাড়াও এটি ইমিউন সিস্টেমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। এই রাসায়নিকগুলোর নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে ডিফ্লাজাকোর্ট ইমিউনোস্যাপ্রেসিভ (ইমিউন দমনকারী) কার্যকারিতা প্রদান করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য:
তীব্র রোগের ক্ষেত্রে শুরুতে ডিফ্লাজাকোর্ট ১২০ মি.গ্রা./দিন পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে। অধিকাংশ অবস্থায় রক্ষণাবেক্ষণ (maintenance) ডোজ সাধারণত ৩–১৮ মি.গ্রা./দিনের মধ্যে থাকে।

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস:
রক্ষণাবেক্ষণ ডোজ সাধারণত ৩–১৮ মি.গ্রা./দিন। সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ ব্যবহার করা উচিত এবং প্রয়োজনে ধীরে ধীরে বাড়ানো যেতে পারে।

ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা:
তীব্র আক্রমণের চিকিৎসায় রোগের তীব্রতার উপর নির্ভর করে ৪৮–৭২ মি.গ্রা./দিন পর্যন্ত উচ্চ ডোজ প্রয়োজন হতে পারে এবং আক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এলে ধীরে ধীরে ডোজ কমানো উচিত। দীর্ঘমেয়াদি অ্যাজমার ক্ষেত্রে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ নির্ধারণ করতে হবে।

অন্যান্য রোগে:
ডোজ রোগীর ক্লিনিক্যাল প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ ব্যবহার করা উচিত। প্রাথমিক ডোজ অনুমান করতে হলে ৫ মি.গ্রা. প্রেডনিসোন বা প্রেডনিসোলোনের সমান প্রায় ৬ মি.গ্রা. ডিফ্লাজাকোর্ট ধরা যেতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে:
ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে শিশুদের উপর ডিফ্লাজাকোর্টের ব্যবহার সীমিত। শিশুদের ক্ষেত্রে গ্লুকোকর্টিকয়েড ব্যবহারের নির্দেশনা প্রাপ্তবয়স্কদের মতোই, তবে সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিকল্প দিনে (alternate day) ডোজ দেওয়া উপযুক্ত হতে পারে। সাধারণত ডোজ ০.২৫–১.৫ মি.গ্রা./কেজি/দিনের মধ্যে থাকে।

নির্দেশনামূলক ডোজ রেঞ্জ:

  • জুভেনাইল ক্রনিক আর্থ্রাইটিস: সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ ডোজ ০.২৫–১.০ মি.গ্রা./কেজি/দিন।
  • নেফ্রোটিক সিন্ড্রোম: শুরুতে সাধারণত ১.৫ মি.গ্রা./কেজি/দিন, পরে ক্লিনিক্যাল প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে কমানো হয়।
  • ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা: শক্তি অনুপাতে প্রাথমিক ডোজ ০.২৫–১.০ মি.গ্রা./কেজি, বিকল্প দিনে।

ডিফ্লাজাকোর্ট বন্ধ করা (Withdrawal):
যেসব রোগী ৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় মাত্রার চেয়ে বেশি ডোজ (প্রায় ৯ মি.গ্রা./দিন বা সমতুল্য) গ্রহণ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।

ডোজ কমানোর পদ্ধতি মূলত নির্ভর করে রোগটি ডোজ কমানোর সাথে সাথে পুনরায় ফিরে আসার (relapse) সম্ভাবনা আছে কিনা তার উপর।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

ডিফ্লাজাকোর্ট যকৃতে (লিভারে) বিপাক হয়। যদি এটি এমন ওষুধের সাথে একত্রে ব্যবহার করা হয় যা লিভারের এনজাইমকে উদ্দীপিত করে (enzyme inducer), তবে ডিফ্লাজাকোর্টের রক্ষণাবেক্ষণ ডোজ বাড়াতে হতে পারে। এ ধরনের ওষুধের মধ্যে রয়েছে রিফ্যাম্পিসিন, রিফাবুটিন, কার্বামাজেপিন, ফেনোবারবিটোন, ফেনিটয়েন, প্রাইমিডোন এবং অ্যামিনোগ্লুটেথিমাইড।

অন্যদিকে, যদি এমন ওষুধের সাথে ব্যবহার করা হয় যা লিভারের এনজাইমকে বাধা দেয় (enzyme inhibitor), যেমন কেটোকোনাজল, তাহলে ডিফ্লাজাকোর্টের রক্ষণাবেক্ষণ ডোজ কমানোর প্রয়োজন হতে পারে।

প্রতিনির্দেশনা

ওষুধটির প্রতি বা এর কোনো উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা থাকলে এটি ব্যবহার নিষিদ্ধ। এছাড়াও যারা লাইভ ভাইরাস ভ্যাকসিন গ্রহণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে থাকতে পারে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা, পেশী ও অস্থিসংক্রান্ত সমস্যা, এন্ডোক্রাইন, নিউরোসাইকিয়াট্রিক ও চোখের সমস্যা, পাশাপাশি শরীরের তরল ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা। রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে এবং ক্ষত সারাতে দেরি হতে পারে। অন্যান্য সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে অতিসংবেদনশীলতা প্রতিক্রিয়া, ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া (স্কিন অ্যাট্রফি), স্ট্রাই (ত্বকে দাগ), টেল্যাঞ্জিয়েকটেসিয়া, ব্রণ, সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাকের (মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন) পর হৃদপেশি ফেটে যাওয়া এবং থ্রম্বোএম্বোলিজম।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা: ডিফ্লাজাকোর্ট প্লাসেন্টা অতিক্রম করে ভ্রূণে পৌঁছাতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে বা বারবার কর্টিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করলে গর্ভের শিশুর বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ার (intrauterine growth retardation) ঝুঁকি বাড়তে পারে। সব ওষুধের মতোই, গর্ভাবস্থায় কর্টিকোস্টেরয়েড শুধুমাত্র তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন মায়ের ও ভ্রূণের জন্য উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি হয়।

দুগ্ধদানকারী মা: কর্টিকোস্টেরয়েড বুকের দুধে নির্গত হয়, তবে ডিফ্লাজাকোর্ট সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। প্রতিদিন ৫০ মি.গ্রা. পর্যন্ত ডোজ শিশুর শরীরে সাধারণত কোনো উল্লেখযোগ্য সিস্টেমিক প্রভাব ফেলে না। তবে এর চেয়ে বেশি ডোজ গ্রহণকারী মায়েদের শিশুর ক্ষেত্রে কিছুটা অ্যাড্রিনাল দমন (adrenal suppression) হতে পারে, যদিও স্তন্যপানের উপকার সাধারণত সম্ভাব্য তাত্ত্বিক ঝুঁকির চেয়ে বেশি বিবেচিত হয়।

সতর্কতা
  • হৃদরোগজনিত অবস্থা: হৃদরোগ বা কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউর (সক্রিয় রিউম্যাটিক কার্ডাইটিস ব্যতীত), উচ্চ রক্তচাপ এবং থ্রম্বোএম্বোলিক রোগ। গ্লুকোকর্টিকয়েড শরীরে সোডিয়াম ও পানি জমা বাড়াতে পারে এবং পটাশিয়াম হ্রাস করতে পারে; তাই লবণ সীমিত করা ও পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে।
  • গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল অবস্থা: গ্যাস্ট্রাইটিস, ইসোফেজাইটিস, ডাইভার্টিকুলাইটিস এবং আলসারেটিভ কোলাইটিস (বিশেষ করে ছিদ্র, অ্যাবসেস বা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে), সাম্প্রতিক অন্ত্রের অ্যানাস্টোমোসিস এবং সক্রিয় বা সুপ্ত পেপটিক আলসার।
  • মেটাবলিক ও সিস্টেমিক অবস্থা: ডায়াবেটিস মেলিটাস (বা পারিবারিক ইতিহাস), অস্টিওপোরোসিস, মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস এবং কিডনি অকার্যকারিতা।
  • স্নায়বিক ও মানসিক অবস্থা: মানসিক অস্থিতিশীলতা, সাইকোটিক প্রবণতা এবং এপিলেপসি।
  • পেশীজনিত অবস্থা: কোর্টিকোস্টেরয়েড-জনিত মায়োপ্যাথির পূর্ব ইতিহাস।
  • লিভারজনিত অবস্থা: লিভার ফেইলিউর।
  • এন্ডোক্রাইন/লিভার সম্পর্কিত অবস্থা: হাইপোথাইরয়ডিজম এবং সিরোসিস, যা গ্লুকোকর্টিকয়েডের প্রভাব বাড়াতে পারে।
  • চক্ষুজনিত অবস্থা: চোখের হারপিস সিমপ্লেক্স সংক্রমণ, কারণ কর্নিয়া ছিদ্র হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
স্পেশিয়াল পপুলেশন
  • যকৃতের অকার্যকারিতা (Hepatic impairment): যকৃতের সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ডিফ্লাজাকোর্টের রক্তে মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই ডোজ সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করে সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় সমন্বয় করতে হবে।
  • কিডনির অকার্যকারিতা (Renal impairment): কিডনি সমস্যাযুক্ত রোগীদের ক্ষেত্রে গ্লুকোকর্টিকয়েড থেরাপিতে সাধারণত যেসব সতর্কতা নেওয়া হয়, তার বাইরে অতিরিক্ত বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন নেই।
  • বয়স্ক রোগী (Elderly): বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণ গ্লুকোকর্টিকয়েড ব্যবহারের নিয়ম ছাড়া অতিরিক্ত বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন নেই। তবে সিস্টেমিক কর্টিকোস্টেরয়েডের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো বয়স্কদের ক্ষেত্রে বেশি গুরুতর হতে পারে।
থেরাপিউটিক ক্লাস

গ্লুকোকর্টিকয়েডস

সংরক্ষণ

২৫°সে-এর নিচে ঠান্ডা ও শুষ্ক স্থানে সংরক্ষণ করুন। আলো ও আর্দ্রতা থেকে সুরক্ষিত রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

Deflazacort কী জন্য ব্যবহৃত হয়?

Deflazacort কী করে?

Deflazacort-এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?

Deflazacort বেশি খেলে কী হয়?

গর্ভাবস্থায় Deflazacort নেওয়া যাবে কি?

No available drugs found

  View in English