বেটাক্সোলল অপথ্যালমিক সলিউশন চোখের ভেতরের চাপ কমাতে ব্যবহৃত হয় এবং এটি অকুলার হাইপারটেনশন ও ক্রনিক ওপেন-এঙ্গেল গ্লুকোমার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি এককভাবে অথবা অন্যান্য চোখের চাপ কমানোর ওষুধের সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বেটাক্সোলল হাইড্রোক্লোরাইড
Generic Medicineফার্মাকোলজি
বেটাক্সোলল একটি সিলেক্টিভ বিটা-১ অ্যাড্রেনার্জিক রিসেপ্টর ব্লকার, যার উল্লেখযোগ্য মেমব্রেন-স্ট্যাবিলাইজিং (লোকাল অ্যানেস্থেটিক) কার্যকারিতা নেই এবং এতে কোনো ইন্ট্রিনসিক সিম্প্যাথোমিমেটিক প্রভাব নেই। চোখে প্রয়োগ করলে এটি উচ্চ ও স্বাভাবিক উভয় ধরনের চোখের চাপ কমায়, গ্লুকোমা থাকুক বা না থাকুক। দীর্ঘদিন উচ্চ চোখের চাপ অপটিক নার্ভের ক্ষতি ও দৃষ্টিক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার কারণ হতে পারে। বেটাক্সোলল মূলত অ্যাকুয়াস হিউমার উৎপাদন কমিয়ে চোখের চাপ হ্রাস করে, যা টোনোগ্রাফি ও অ্যাকুয়াস ফ্লুরোফোটোমেট্রি দ্বারা প্রমাণিত। এটি পিউপিল সংকোচন (মিওসিস) বা অ্যাকোমোডেশন স্পাজম সৃষ্টি করে না, যা সাধারণত মিওটিক ওষুধে দেখা যায়।
এটির কার্যকারিতা সাধারণত ৩০ মিনিটের মধ্যে শুরু হয় এবং প্রায় ২ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রভাব দেখা যায়। একটি ডোজ প্রায় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত চোখের চাপ কমিয়ে রাখতে পারে এবং দিনে দুইবার ব্যবহারে অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে চোখের চাপ ২২ mm Hg এর নিচে বজায় থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
০.৫% চক্ষু দ্রবণ: সাধারণ ডোজ হলো আক্রান্ত চোখে দিনে দুইবার বেটাক্সোলল হাইড্রোক্লোরাইড চক্ষু দ্রবণের ১ ফোঁটা। কিছু রোগীর ক্ষেত্রে চোখের ভেতরের চাপ কমানোর প্রতিক্রিয়া স্থিতিশীল হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। চিকিৎসার প্রথম মাসে নিয়মিত ফলো-আপে চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ নির্ধারণ করা উচিত। এরপর চিকিৎসকের বিবেচনায় ব্যক্তিগতভাবে চোখের চাপ নির্ধারণ করা উচিত।
০.২৫% চক্ষু দ্রবণ: প্রস্তাবিত ডোজ হলো আক্রান্ত চোখে দিনে দুইবার বেটাক্সোলল হাইড্রোক্লোরাইড চক্ষু দ্রবণের ১ থেকে ২ ফোঁটা।
শিশুদের ব্যবহার: শিশুদের ক্ষেত্রে এর নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বয়স্কদের ব্যবহার: বয়স্ক ও কম বয়সী রোগীদের মধ্যে নিরাপত্তা বা কার্যকারিতায় কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়নি।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
যেসব রোগী মুখে খাওয়ার বিটা-ব্লকারের সাথে বেটাক্সোলল অপথ্যালমিক সলিউশন ব্যবহার করছেন, তাদের ক্ষেত্রে চোখের চাপ বা সিস্টেমিক প্রভাবের অতিরিক্ত প্রভাবের জন্য পর্যবেক্ষণ করা উচিত। রেসারপিনের মতো ক্যাটেকোলামিন-হ্রাসকারী ওষুধের সাথে ব্যবহার করলে রক্তচাপ কমে যাওয়া বা ব্র্যাডিকার্ডিয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে, তাই সতর্কতা প্রয়োজন। অ্যাড্রেনার্জিক সাইকোট্রপিক ওষুধের সাথে ব্যবহারেও সতর্ক থাকতে হবে। অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য মিওটিক ওষুধ দিয়ে পিউপিল সংকোচন করা হয়; বেটাক্সোলল পিউপিলে খুব কম প্রভাব ফেলে। তাই এ ক্ষেত্রে এটি একা নয়, মিওটিকের সাথে ব্যবহার করা উচিত।
প্রতিনির্দেশনা
যেসব রোগীর এই ওষুধের কোনো উপাদানের প্রতি অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা যাবে না। সাইনাস ব্র্যাডিকার্ডিয়া, প্রথম ডিগ্রির বেশি এট্রিওভেন্ট্রিকুলার ব্লক, কার্ডিওজেনিক শক বা সুস্পষ্ট হার্ট ফেইলিউরের ইতিহাস থাকলে বেটাক্সোলল ব্যবহার করা উচিত নয়।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
চোখ সম্পর্কিত: স্বল্প সময়ের জন্য চোখে অস্বস্তি এবং মাঝে মাঝে চোখ দিয়ে পানি পড়া হতে পারে। বিরল ক্ষেত্রে কর্নিয়ার সংবেদনশীলতা কমে যাওয়া, লালচে ভাব, চুলকানি, কর্নিয়াল দাগ, কেরাটাইটিস, ফোলা এবং আলোতে সংবেদনশীলতা (ফোটোফোবিয়া) দেখা যেতে পারে।
সিস্টেমিক: সিস্টেমিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব কম হলেও হতে পারে, যেমন:
- কার্ডিওভাসকুলার: ব্র্যাডিকার্ডিয়া, হার্ট ব্লক, কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিউর
- রেসপিরেটরি: ব্রঙ্কোস্পাজম, শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যর্থতা
- অন্যান্য: চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি (হাইভস), টক্সিক এপিডার্মাল নেক্রোলাইসিস, চুল পড়া এবং জিহ্বার প্রদাহ (গ্লসাইটিস)
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও নিয়ন্ত্রিত গবেষণা নেই। তাই সম্ভাব্য উপকারিতা ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে তবেই বেটাক্সোলল অপথ্যালমিক সলিউশন ব্যবহার করা উচিত। বেটাক্সোলল মায়ের দুধে নির্গত হয় কিনা জানা নেই। স্তন্যপানকারী শিশুর ক্ষেত্রে হাইপোগ্লাইসেমিয়া ও ব্র্যাডিকার্ডিয়ার ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে মূল্যায়িত হয়নি। তাই চিকিৎসাকালীন স্তন্যদান করা উচিত নয়।
সতর্কতা
অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসার লক্ষ্য হলো মিওটিক ওষুধ দিয়ে পিউপিল সংকুচিত করে অ্যাঙ্গেল পুনরায় খোলা। বেটাক্সোলল পিউপিলে প্রভাব ফেলে না, তাই এটি একা নয়, মিওটিকের সাথে ব্যবহার করা উচিত। বিটা-ব্লকার ওষুধ হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ ঢেকে দিতে পারে, তাই যেসব রোগীর স্বতঃস্ফূর্ত হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয় বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
মাত্রাধিকত্যা
অতিরিক্ত ব্যবহারের বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। অতিরিক্ত প্রয়োগ হলে চোখ কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
গ্লুকোমা ও মিওটিক থেরাপিতে ব্যবহৃত ওষুধ
সংরক্ষণ
রুম টেম্পারেচারে সংরক্ষণ করুন। বোতল খোলার পর এক মাসের বেশি ব্যবহার না করাই উত্তম।
সাধারণ প্রশ্ন
বেটাক্সোলল হাইড্রোক্লোরাইড কিসের ওষুধ?
বেটাক্সোলল হাইড্রোক্লোরাইড এর কাজ কি?
বেটাক্সোলল হাইড্রোক্লোরাইড এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?
বেটাক্সোলল হাইড্রোক্লোরাইড বেশি খেলে কি হয় ?
বেটাক্সোলল হাইড্রোক্লোরাইড কি গর্ভবতী মায়েদের জন্য নিরাপদ?