Loading...

ডেক্সকিটোপ্রোফেন

Generic Medicine
নির্দেশনা

ডেক্সকিটোপ্রোফেন হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার ব্যথা ও প্রদাহের উপসর্গগত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যেমন মাংসপেশি ও অস্থিসন্ধির ব্যথা, মাসিকের ব্যথা এবং দাঁতের ব্যথা।

ফার্মাকোলজি

ডেক্সকিটোপ্রোফেন হলো কেটোপ্রোফেনের S(+)-এনান্টিওমার এবং এটি কেটোপ্রোফেনের ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক প্রভাবের জন্য দায়ী। নিষ্ক্রিয় R(-)-এনান্টিওমারটি চিকিৎসাগত কার্যকারিতায় কোনো অবদান রাখে না, তবে এটি বিপাকীয় চাপ বৃদ্ধি করে। ডেক্সকেটোপ্রোফেন ট্রোমেটামল সল্ট হিসেবে প্রস্তুত করা হয়, যা পানিতে উচ্চ দ্রবণীয়তা প্রদান করে এবং পরিপাকতন্ত্র থেকে দ্রুত শোষণ নিশ্চিত করে, ফলে কেটোপ্রোফেনের তুলনায় দ্রুত কার্যকারিতা শুরু হয়। অনেক সাধারণ ব্যথানাশকের তুলনায় এটি দ্রুত রক্তে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায় এবং প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে কার্যকারিতা শুরু হয়। ট্যাবলেট আকারে গ্রহণের পর ডেক্সকেটোপ্রোফেন ট্রোমেটামল ০.২৫–০.৭৫ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ প্লাজমা ঘনত্বে (tmax) পৌঁছে, যেখানে রেসেমিক কেটোপ্রোফেনের S-এনান্টিওমারের tmax ০.৫ থেকে ৩ ঘণ্টা। ১২.৫ মি.গ্রা. ও ২৫ মি.গ্রা. ডোজে যথাক্রমে ১.৪ mg/L ও ৩.১ mg/L সর্বোচ্চ প্লাজমা ঘনত্ব পাওয়া যায়। প্রায় ৭০–৮০% ডোজ প্রথম ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রস্রাবের মাধ্যমে নির্গত হয়, প্রধানত গ্লুকুরোনাইড সংযুক্ত আকারে। ডেক্সকেটোপ্রোফেন গ্রহণের পর প্রস্রাবে R(-)-কেটোপ্রোফেন পাওয়া যায় না, যা প্রমাণ করে যে মানবদেহে S(+)-এনান্টিওমারের কোনো বিপরীত রূপান্তর (bioinversion) ঘটে না। ডেক্সকেটোপ্রোফেনের প্রদাহনাশক কার্যকারিতা কেটোপ্রোফেনের দ্বিগুণ ডোজের সমান।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ডেক্সকিটোপ্রোফেন ২৫ মি.গ্রা. ট্যাবলেটের ডোজ ব্যথার ধরন, তীব্রতা এবং সময়কাল অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। সাধারণভাবে প্রস্তাবিত ডোজ হলো প্রতি ৮ ঘণ্টা অন্তর ১টি ট্যাবলেট, তবে দিনে সর্বোচ্চ ৩টির বেশি নয়। বয়স্ক রোগী এবং যাদের কিডনি বা লিভারের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে দৈনিক সর্বোচ্চ ২টি ট্যাবলেট দিয়ে চিকিৎসা শুরু করা উচিত। সাধারণত ট্যাবলেট খাবারের সাথে গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট আগে ট্যাবলেট গ্রহণ করা ভালো। শিশুদের জন্য ডেক্সকেটোপ্রোফেন ব্যবহারের সুপারিশ করা হয় না।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

ডেক্সকিটোপ্রোফেন ব্যবহারের সময় নিচের ওষুধগুলো একসাথে ব্যবহার করা যাবে না: অন্যান্য নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ (NSAIDs), অ্যান্টিকোঅ্যাগুল্যান্ট ওষুধ, লিথিয়াম, মেথোট্রেক্সেট, হাইডানটয়িন (মৃগী রোগে ব্যবহৃত), এবং কিছু সালফোনামাইড ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন সালফামেথোক্সাজল)। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ যেমন ACE ইনহিবিটর, ডাইইউরেটিক ও বিটা-ব্লকার, পাশাপাশি পেন্টক্সিফাইলিন, জিডোভুডিন, সাইক্লোস্পোরিন ও ট্যাক্রোলিমাসের সাথেও পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন মৌখিক ডায়াবেটিসের ওষুধ (সালফোনাইলইউরিয়া), থ্রম্বোলাইটিক ওষুধ, প্রোবেনেসিড, কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইড, মিফেপ্রিস্টোন এবং কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে।

প্রতিনির্দেশনা

Dexketoprofen ট্যাবলেট সেই রোগীদের জন্য সুপারিশ করা হয় না যারা এই ওষুধ, aspirin, বা অন্যান্য non-steroidal anti-inflammatory drugs (NSAIDs)-এর প্রতি অ্যালার্জিক। এটি এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এড়িয়ে চলতে হবে, যাদের aspirin বা অন্য NSAIDs গ্রহণের পর অ্যাজমা অ্যাটাক, ব্রঙ্কোস্পাজম, acute rhinitis, নাসাল পলিপস, আর্টিকারিয়া, বা অ্যাঞ্জিওএডেমা (মুখ, চোখ, ঠোঁট বা জিহ্বা ফুলে যাওয়া, বা শ্বাসকষ্ট) হয়েছে। এটি contraindicated যেসব রোগীর বর্তমানে বা অতীতে peptic ulcer বা দীর্ঘস্থায়ী gastrointestinal রোগ রয়েছে, gastrointestinal bleeding-এর ইতিহাস আছে, bronchial asthma আছে, severe heart failure আছে, moderate থেকে severe renal impairment আছে, অথবা গুরুতর লিভার ফাংশন সমস্যা রয়েছে। এছাড়াও, এটি ব্যবহার করা যাবে না যেসব রোগীর রক্তক্ষরণ বা clotting disorder রয়েছে, যারা anticoagulant ওষুধ গ্রহণ করছেন, এবং গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী নারী।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সব ওষুধের মতো ডেক্সকিটোপ্রোফেন ২৫ মি.গ্রা. ট্যাবলেটও কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এগুলো নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ (NSAIDs)-এর সাধারণ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নিচে দেওয়া হলো:

  • সাধারণ (১–১০%): বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা বা বুকজ্বালা।
  • কম সাধারণ (০.১–১%): ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ভার্টিগো, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, পেট ফাঁপা, ত্বকে র‍্যাশ, ক্লান্তি, হঠাৎ গরম লাগা, কাঁপুনি এবং সাধারণ দুর্বলতা।
  • দুর্লভ (০.০১–০.১%): পাকস্থলীর আলসার, গ্যাস্ট্রিক রক্তক্ষরণ বা ছিদ্র হওয়া, ঝিনঝিন অনুভূতি, উচ্চ রক্তচাপ, শরীরে পানি জমা, শ্বাস ধীর হয়ে যাওয়া, লিভার এনজাইম বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত ঘাম।
  • অত্যন্ত দুর্লভ / বিচ্ছিন্ন ঘটনা (<০.০১%): দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, কানে শব্দ হওয়া (টিনিটাস), রক্তচাপ কমে যাওয়া, রক্তজনিত সমস্যা, লিভার বা কিডনির ক্ষতি, ত্বকের ও আলোতে সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া, ব্রঙ্কোস্পাজম বা অ্যানাফাইল্যাক্সিস।

সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমাটোসাস বা মিক্সড কানেকটিভ টিস্যু ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে প্রদাহনাশক ওষুধ খুবই বিরলভাবে জ্বর, মাথাব্যথা এবং ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালীন সময়ে ডেক্সকিটোপ্রোফেন ট্যাবলেট ব্যবহার করার সুপারিশ করা হয় না।

সতর্কতা

যেসব রোগীর অন্যান্য NSAIDs-এর প্রতি অ্যালার্জি রয়েছে, অথবা যাদের কিডনি রোগ, লিভারের রোগ, হৃদরোগ বা শরীরে পানি জমার সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ডেক্সকিটোপ্রোফেন  ট্যাবলেট ব্যবহার করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এছাড়া রক্তের রোগ, সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমাটোসাস বা মিক্সড কানেকটিভ টিস্যু ডিজিজে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রেও এটি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত।

স্পেশিয়াল পপুলেশন

এই ওষুধ শিশুদের দেওয়া উচিত নয়।

থেরাপিউটিক ক্লাস

অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ড্রাগস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে ব্যবহৃত ড্রাগস, নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস (NSAIDs)

সংরক্ষণ

৩০°সে-এর নিচে তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করুন, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

সাধারণ প্রশ্ন

ডেক্সকিটোপ্রোফেন কী জন্য ব্যবহার করা হয়?

ডেক্সকিটোপ্রোফেন  কী করে?

ডেক্সকিটোপ্রোফেন এর  পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?

অতিরিক্ত ডেক্সকিটোপ্রোফেন নিলে কী হয়?

গর্ভাবস্থায় ডেক্সকিটোপ্রোফেন ব্যবহার করা যাবে কি?

No available drugs found

  View in English