Loading...

ন্যাপ্রােক্সেন সোডিয়াম + ইসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম

Generic Medicine
নির্দেশনা

এই কম্বিনেশন ট্যাবলেটটি নিচের রোগসমূহের লক্ষণ ও উপসর্গ উপশমে ব্যবহৃত হয়:

  • অস্টিওআর্থ্রাইটিস
  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস
  • অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস
  • এছাড়াও NSAID ব্যবহারের ফলে গ্যাস্ট্রিক আলসার হওয়ার ঝুঁকি যাদের রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আলসার প্রতিরোধে এটি ব্যবহৃত হয়।
ফার্মাকোলজি

এই প্রস্তুতিতে একটি ইমিডিয়েট রিলিজ এসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম স্তর এবং একটি এন্টারিক-কোটেড ন্যাপ্রক্সেন কোর রয়েছে। এর ফলে প্রথমে এসোমিপ্রাজল পাকস্থলীতে মুক্ত হয় এবং ন্যাপ্রক্সেন পরবর্তীতে ক্ষুদ্রান্ত্রে কোটিং দ্রবীভূত হওয়ার পর মুক্ত হয়।

ন্যাপ্রক্সেন একটি নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAID), যার ব্যথানাশক ও জ্বরনাশক গুণ রয়েছে। এটি প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন সংশ্লেষণ বাধা দিয়ে কাজ করে। এসোমিপ্রাজল একটি প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর, যা পাকস্থলীর প্যারিয়েটাল কোষে H⁺/K⁺-ATPase এনজাইম নির্দিষ্টভাবে বাধা দিয়ে গ্যাস্ট্রিক এসিড নিঃসরণ কমায়। ফলে এসিড উৎপাদনের শেষ ধাপ বন্ধ হয়ে গ্যাস্ট্রিক এসিডিটি কমে যায় এবং পাকস্থলী সুরক্ষিত থাকে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

এই ট্যাবলেট ব্যবহারের আগে সম্ভাব্য উপকারিতা ও ঝুঁকি এবং অন্যান্য চিকিৎসা বিকল্প সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হবে। রোগীর ব্যক্তিগত চিকিৎসার লক্ষ্য অনুযায়ী সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ সর্বনিম্ন সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। যদি Esomeprazole-এর দৈনিক মোট ডোজ 40 মিগ্রার কম প্রয়োজন হয়, তবে অন্য চিকিৎসা বিবেচনা করা উচিত।

রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস এবং অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস

  • প্রাপ্তবয়স্ক: দিনে দুইবার ১টি ট্যাবলেট, যেমন: 375 মিগ্রা naproxen/20 মিগ্রা esomeprazole; অথবা 500 মিগ্রা naproxen/20 মিগ্রা esomeprazole।

১২ বছর বা তার বেশি বয়সী কিশোরদের জুভেনাইল আইডিওপ্যাথিক আর্থ্রাইটিস

  • ওজন 50 কেজির বেশি: 375 মিগ্রা naproxen/20 মিগ্রা esomeprazole; অথবা 500 মিগ্রা naproxen/20 মিগ্রা esomeprazole।
  • ওজন 38 কেজি থেকে 50 কেজির কম: দিনে দুইবার ১টি ট্যাবলেট 375 মিগ্রা naproxen/20 মিগ্রা esomeprazole।

ট্যাবলেট ভাঙা, চিবানো, গুঁড়ো করা বা দ্রবীভূত করা যাবে না। এই ট্যাবলেট খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট আগে গ্রহণ করতে হবে।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

ওষুধের সাথে:

  • NSAIDs একসাথে ব্যবহার করলে ACE ইনহিবিটর, ডাইইউরেটিক ও বিটা-ব্লকারের অ্যান্টিহাইপারটেনসিভ প্রভাব কমে যেতে পারে।
  • এই ট্যাবলেট ও ওয়ারফারিন একসাথে ব্যবহার করলে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • এসোমিপ্রাজল পাকস্থলীর এসিড নিঃসরণ কমায় এবং যেসব ওষুধের শোষণ পাকস্থলীর pH-এর উপর নির্ভরশীল (যেমন কেটোকোনাজল, আয়রন সল্ট, ডিগক্সিন), তাদের শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে।

খাবার ও অন্যান্য: সুস্থ স্বেচ্ছাসেবকদের ক্ষেত্রে উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে ন্যাপ্রক্সেন ও এসোমিপ্রাজল একসাথে গ্রহণ করলে ন্যাপ্রক্সেনের মোট শোষণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয় না, তবে সর্বোচ্চ ঘনত্বে পৌঁছাতে সময় (tmax) প্রায় ১০ ঘণ্টা বাড়ে এবং সর্বোচ্চ প্লাজমা ঘনত্ব (Cmax) প্রায় ১২% কমে যায়।

প্রতিনির্দেশনা
  • এই ট্যাবলেটের যেকোনো উপাদান বা সাবস্টিটিউটেড বেঞ্জিমিডাজল-এর প্রতি অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করা যাবে না।
  • অ্যাসপিরিন বা অন্যান্য NSAID ব্যবহারের পর অ্যাজমা, আর্টিকারিয়া বা অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার ইতিহাস থাকলে ব্যবহার নিষিদ্ধ।
  • করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফট (CABG) সার্জারির পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

ইমিডিয়েট রিলিজ এসোমিপ্রাজল থাকার কারণে ন্যাপ্রক্সেনজনিত গ্যাস্ট্রিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমে যায়। একক ন্যাপ্রক্সেনের তুলনায় এই কম্বিনেশন গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং NSAID-সম্পর্কিত উপরের গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়। ন্যাপ্রক্সেন: ক্লিনিক্যাল ও এপিডেমিওলজিক্যাল তথ্য অনুযায়ী কিছু NSAID (বিশেষ করে উচ্চ ডোজ বা দীর্ঘমেয়াদে) হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো আর্টেরিয়াল থ্রম্বোটিক ইভেন্টের ঝুঁকি সামান্য বাড়াতে পারে। যদিও ন্যাপ্রক্সেন (প্রতিদিন ১০০০ মি.গ্রা) তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তবে ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া যায় না। NSAID ব্যবহারে এডিমা, হাইপারটেনশন এবং হার্ট ফেইলিওর হতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সমস্যা যেমন পেপটিক আলসার, পারফোরেশন বা রক্তক্ষরণ, যা কখনও কখনও প্রাণঘাতী হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে। এছাড়া বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডিসপেপসিয়া, পেট ব্যথা, মেলেনা, হেমাটেমেসিস, আলসারেটিভ স্টোমাটাইটিস, আলসারেটিভ কোলাইটিস বা ক্রনের রোগের অবনতি এবং কখনও কখনও গ্যাস্ট্রাইটিস দেখা দিতে পারে।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থা: গর্ভধারণের চেষ্টা করা নারী বা গর্ভাবস্থার প্রথম ও দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে শুধুমাত্র উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে ব্যবহার করা যাবে। তৃতীয় ত্রৈমাসিকে এটি নিষিদ্ধ।

স্তন্যদান: ন্যাপ্রক্সেন অল্প পরিমাণে মায়ের দুধে নিঃসৃত হয়। এসোমিপ্রাজল দুধে নিঃসৃত হয় কিনা তা জানা যায়নি। তাই স্তন্যদানকালে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

ফার্টিলিটি: ন্যাপ্রক্সেনের মতো NSAID নারী প্রজনন ক্ষমতা কমাতে পারে। তাই গর্ভধারণের চেষ্টা করা নারীদের ক্ষেত্রে এটি সুপারিশ করা হয় না।

সতর্কতা

সাধারণ: ন্যাপ্রক্সেন ও এসোমিপ্রাজল ট্যাবলেট এবং অন্যান্য NSAID (COX-2 সিলেক্টিভ ইনহিবিটরসহ) একসাথে ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে NSAID-সম্পর্কিত গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রয়োজনে এটি কম মাত্রার অ্যাসিটাইলসালিসিলিক অ্যাসিডের সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে। সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ এবং স্বল্প সময় ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানো যায়। NSAID-সম্পর্কিত গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল জটিলতার ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে বেশি বয়স, অ্যান্টিকোঅ্যাগুল্যান্ট, কর্টিকোস্টেরয়েড, অন্যান্য NSAID (লো-ডোজ অ্যাসপিরিনসহ), হৃদরোগ, হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি সংক্রমণ এবং পেপটিক আলসার বা উপরের জিআই রক্তক্ষরণের ইতিহাস। ইনডিউসিবল পোরফিরিয়া, সিস্টেমিক লুপাস এরিথেমাটোসাস এবং মিক্সড কানেকটিভ টিস্যু ডিজিজে ন্যাপ্রক্সেন শুধুমাত্র ঝুঁকি-উপকার বিবেচনার পর ব্যবহার করা উচিত। দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

বয়স্ক রোগী: বয়স্কদের ক্ষেত্রে জিআই রক্তক্ষরণ ও পারফোরেশনের ঝুঁকি বেশি, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। এসোমিপ্রাজল আলসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল প্রভাব: NSAID ব্যবহারে যেকোনো সময় গ্যাস্ট্রিক রক্তক্ষরণ, আলসার বা পারফোরেশন হতে পারে, এমনকি পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই। উচ্চ ডোজ, আলসারের ইতিহাস এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে প্রোটেকটিভ ওষুধ ব্যবহার করা উচিত। পূর্বে জিআই রোগ থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। এসোমিপ্রাজল থাকা সত্ত্বেও ডিসপেপসিয়া হতে পারে এবং কিছু সংক্রমণের ঝুঁকি সামান্য বাড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ভিটামিন B12 শোষণ কমতে পারে। জিআই রক্তক্ষরণ হলে ওষুধ বন্ধ করতে হবে।

হৃদযন্ত্র ও স্নায়ুজনিত প্রভাব: NSAID ব্যবহারে পানি জমা, উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট ফেইলিওর হতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন।

কিডনি প্রভাব: দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।

স্পেশিয়াল পপুলেশন

বয়স্ক: মোট ওষুধের মাত্রা একই থাকলেও ফ্রি ড্রাগ বাড়তে পারে। সর্বনিম্ন কার্যকর ডোজ ব্যবহার করতে হবে।

কিডনি রোগী: মাঝারি থেকে গুরুতর কিডনি রোগে ব্যবহার করা যাবে না।

লিভার রোগী: হালকা থেকে মাঝারি লিভার সমস্যায় সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। গুরুতর ক্ষেত্রে ব্যবহার নিষিদ্ধ।

মাত্রাধিকত্যা

ন্যাপ্রক্সেন: অবসাদ, মাথা ঘোরা, পেট ব্যথা, বমি, লিভার সমস্যা, কিডনি সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, রক্তক্ষরণ ইত্যাদি হতে পারে।

এসোমিপ্রাজল: সাধারণত সাময়িক ও হালকা উপসর্গ দেখা যায়।

ব্যবস্থাপনা: সহায়ক চিকিৎসা দিতে হবে। নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। সক্রিয় চারকোল উপকারী হতে পারে যদি ৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রহণ করা হয়। ডায়ালাইসিস কার্যকর নয়।

থেরাপিউটিক ক্লাস

অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ওষুধ ,রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ওষুধ, নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (NSAIDs)

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে সংরক্ষণ করতে হবে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখতে হবে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।

সাধারণ প্রশ্ন

ন্যাপ্রক্সেন সোডিয়াম + ইসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম কিসের ওষুধ ?

ন্যাপ্রক্সেন সোডিয়াম + ইসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম এর কাজ কি?

ন্যাপ্রক্সেন সোডিয়াম + ইসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুলো কি কি?

ন্যাপ্রক্সেন সোডিয়াম + ইসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম বেশি খেলে কি হয় ?

গর্ভাবস্থায় ন্যাপ্রক্সেন সোডিয়াম + ইসোমিপ্রাজল ম্যাগনেসিয়াম খাওয়া যাবে কি?

No available drugs found

  View in English