মেফ্লোকুইন ব্যবহৃত হয়:
- Plasmodium falciparum (ক্লোরোকুইন-সংবেদনশীল ও প্রতিরোধী উভয় স্ট্রেইন) এবং Plasmodium vivax দ্বারা সৃষ্ট তীব্র ম্যালেরিয়া চিকিৎসায়
- P. falciparum ও P. vivax ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে (প্রফাইল্যাক্সিস)
মেফ্লোকুইন ব্যবহৃত হয়:
মেফ্লোকুইন Plasmodium falciparum এর ফুড ভ্যাকুয়োলে ফোলা সৃষ্টি করে। এটি মুক্ত হিম (heme)-এর সাথে বিষাক্ত কমপ্লেক্স তৈরি করে পরজীবীর ঝিল্লি ও কোষীয় উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে ধারণা করা হয়। এটি একটি ব্লাড স্কিজন্টিসাইড অ্যান্টিম্যালেরিয়াল, যা ম্যালেরিয়া পরজীবীর রক্ত পর্যায়ে কার্যকর। তবে এটি লিভারের (hepatic) পর্যায়ে কাজ করে না। মেফ্লোকুইন ক্লোরোকুইন-প্রতিরোধী ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধেও কার্যকর। এটি একটি কাইরাল (chiral) যৌগ; গবেষণায় দেখা গেছে (+) এনান্টিওমার বেশি কার্যকর, আর (−) এনান্টিওমার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অ্যাডেনোসিন রিসেপ্টরের সাথে যুক্ত হয়ে মানসিক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।
প্রাপ্তবয়স্ক (Adult):
৬ মাস বা তার বেশি বয়সী শিশু (Children 6 months and older):
বয়স্কদের ব্যবহার (Geriatric Use): বয়স্ক ও তরুণ রোগীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া যায়নি।
খাওয়ার নির্দেশনা: খাবারের সাথে গ্রহণ করা উচিত। সর্বোত্তম ফলাফলের জন্য খাবারের সাথে এবং এক গ্লাস পানি দিয়ে গ্রহণ করা উত্তম।
মেফ্লোকুইন বিভিন্ন ওষুধের সাথে ব্যবহার করলে পারস্পরিক ক্রিয়া দেখা দিতে পারে: কুইনিন, ক্লোরোকুইন, অ্যান্টিহিস্টামিন, ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট (TCA) ও ফেনোথিয়াজিনের সাথে ECG পরিবর্তনের ঝুঁকি বাড়ে। কুইনিডিন বা কুইনিনের সাথে খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়তে পারে। ভ্যালপ্রোইক অ্যাসিড, ফেনোবারবিটাল, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটয়িনের সাথে রক্তে ওষুধের মাত্রা কমে খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে। কেটোকোনাজলের সাথে QT ইন্টারভাল দীর্ঘায়িত ও অ্যারিদমিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ডিগক্সিন, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, অ্যান্টিঅ্যারিদমিক ও বিটা-ব্লকারের সাথে হৃদযন্ত্রের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। অ্যামিওডারোনের সাথে ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিদমিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। TCA, SSRI, বুপ্রোপিয়ন, অ্যান্টিসাইকোটিক ও ট্রামাডলের সাথে খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়ে।মেটোক্লোপ্রামাইড মেফ্লোকুইনের রক্তের ঘনত্ব বাড়াতে পারে। লাইভ টাইফয়েড ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কমতে পারে; লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড ভ্যাকসিন মেফ্লোকুইন শুরুর অন্তত ৩ দিন আগে সম্পন্ন করতে হবে।
মেফ্লোকুইন যাদের এই ওষুধ বা সম্পর্কিত ওষুধ (যেমন কুইনিন, কুইনিডিন)-এ অ্যালার্জি আছে তাদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া সক্রিয় বা সাম্প্রতিক ডিপ্রেশন, উদ্বেগজনিত রোগ, সাইকোসিস, স্কিজোফ্রেনিয়া, অন্যান্য গুরুতর মানসিক রোগ বা খিঁচুনির ইতিহাস থাকলে প্রতিরোধে ব্যবহার করা যাবে না।
গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রিত গবেষণা নেই। তবে বিদ্যমান তথ্য অনুযায়ী ভ্রূণের ক্ষতির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই শুধুমাত্র উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত।
অল্প পরিমাণে ওষুধ মাতৃদুগ্ধে যেতে পারে, তবে শিশুর নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তাই মায়ের চিকিৎসার গুরুত্ব অনুযায়ী স্তন্যদান বা ওষুধ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সতর্কতা: মেফ্লোকুইন কিছু রোগীর মধ্যে মানসিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন উদ্বেগ, সন্দেহপ্রবণতা, বিষণ্নতা থেকে শুরু করে হ্যালুসিনেশন ও সাইকোটিক আচরণ। খুব কম ক্ষেত্রে আত্মহত্যার চিন্তা ও আত্মহত্যার ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে, তবে এর সাথে ওষুধের সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত নয়। যাদের বিষণ্নতার ইতিহাস আছে তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। কুইনিন বা কুইনিডিনের সাথে একসাথে ব্যবহার করলে ECG পরিবর্তন হতে পারে এবং খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সতর্কতা: মৃগী রোগীদের ক্ষেত্রে খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়তে পারে। গাড়ি চালানো, যন্ত্রপাতি পরিচালনা বা বিমান চালানোর মতো মনোযোগ প্রয়োজনীয় কাজের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। মানসিক রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। লিভারের সমস্যা থাকলে ওষুধ শরীর থেকে ধীরে বের হতে পারে, ফলে রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে। ব্যবস্থাপনা হিসেবে:
আন্টি-ম্যালারিয়াল ড্রাগস্
শীতল ও শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করুন।
Mefloquine কিসের ওষুধ?
Mefloquine এর কাজ কি?
Mefloquine এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি?
Mefloquine বেশি খেলে কি হয়?
গর্ভাবস্থায় Mefloquine খাওয়া যাবে কি?